মাঝারি সাইজের ডিজাইন পিতলের হামাম দিস্তা
বাংলাদেশের রান্নাঘরের কথা ভাবলে যে কয়েকটি পুরোনো জিনিসের ছবি চোখে ভাসে, তার মধ্যে হামানদিস্তা অন্যতম। মসলা ছেঁচার সেই চেনা শব্দ আজও অনেক বাড়ির সকাল-দুপুরের অংশ। Albaki Shop-এর মাঝারি সাইজের এই Design Hamam Dista সেই ঐতিহ্যকেই আপনার রান্নাঘরে ফিরিয়ে আনে। পিতলের তৈরি এই হামাম দিস্তায় রয়েছে নকশার ছোঁয়া, যা একে সাধারণ রান্নার সরঞ্জামের চেয়ে আলাদা করে তোলে।
ডিজাইন হামাম দিস্তা কী এবং কীভাবে কাজ করে
হামাম দিস্তা বা হামানদিস্তা মূলত দুটি অংশের একটি জুটি। একটি অংশ গর্তযুক্ত পাত্র, যেখানে উপকরণ রাখা হয়। অন্যটি দণ্ডের মতো মুগুর, যা দিয়ে পাত্রের ভেতরে আঘাত করে বা ঘষে উপকরণ ছেঁচা হয়। মুগুরের চাপে গোটা মসলা ভাঙে, আদা-রসুন থেঁতো হয় এবং শুকনো উপকরণ মোটা বা মিহি গুঁড়োর দিকে এগিয়ে যায়।
এই পণ্যটি একটি পিতলের হামাম দিস্তা, আর এর বিশেষত্ব এর নকশা। নকশাযুক্ত পিতলের হামানদিস্তা শুধু রান্নার কাজেই লাগে না, রান্নাঘরের তাকে বা খাবার টেবিলের পাশে রাখলেও চোখে পড়ে। যাঁরা কাজের জিনিসেও সৌন্দর্য খোঁজেন, তাঁদের কাছে Design Hamam Dista আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
পণ্যের ওজন
এই মাঝারি সাইজের হামাম দিস্তার আনুমানিক ওজন ১ কেজি (+/−)।
রান্নাঘরে ব্যবহারের সুবিধা
ঐতিহ্যবাহী হামানদিস্তার প্রধান সুবিধা হলো, আপনি নিজের হাতে উপকরণের গড়ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কখনো দরকার হয় একটু ভাঙা মসলা, কখনো আবার মিহি করে ছেঁচা উপকরণ। হামাম দিস্তায় ছেঁচার সময় কতটা চাপ দেবেন এবং কতক্ষণ ছেঁচবেন, তা পুরোপুরি আপনার হাতে থাকে।
প্রতিদিনের রান্নায়
অল্প পরিমাণ মসলা প্রস্তুত করতে বড় যন্ত্র চালু করার প্রয়োজন হয় না। এক-দুটি এলাচ, কয়েকটি গোলমরিচ বা সামান্য আদা-রসুন ছেঁচতে মাঝারি আকারের পিতলের হামাম দিস্তা সুবিধাজনক। যাঁরা তাজা ছেঁচা মসলার ঘ্রাণ পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এর ব্যবহার বিশেষভাবে পরিচিত।
বিদ্যুৎ ছাড়া ব্যবহার
পিতলের মসলা পেষার যন্ত্র হিসেবে হামানদিস্তা সম্পূর্ণ হাতে চালানো যায়। এর জন্য বিদ্যুৎ বা ব্যাটারির দরকার নেই। তাই লোডশেডিংয়ের সময়ও রান্নার প্রস্তুতি থেমে থাকে না। এছাড়া এটি রান্নাঘরে খুব বেশি জায়গা দখল করে না।
নানা রকম উপকরণে
আদা, রসুন, কাঁচা মরিচ, গোটা জিরা, ধনিয়া, এলাচ কিংবা লবঙ্গের মতো উপকরণ ছেঁচার কাজে হামানদিস্তা পরিচিত। কোন উপকরণের জন্য কতটা শক্তি লাগবে, তা ব্যবহার করতে করতেই বোঝা যায়। শুরুতে অল্প পরিমাণ নিয়ে ছেঁচলে ছিটকে পড়ার ঝামেলা কমে।
ঐতিহ্য ও নকশার আকর্ষণ
পিতল বাংলাদেশের ঘরোয়া সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরে পরিচিত একটি ধাতু। থালা, বাটি, ঘটি, কলস থেকে শুরু করে নানা ঘরোয়া সামগ্রীতে এর ব্যবহার দেখা যায়। পিতলের উষ্ণ সোনালি আভা পুরোনো দিনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, আর সেই কারণেই অনেকে আধুনিক রান্নাঘরেও পিতলের জিনিস রাখতে ভালোবাসেন।
হামানদিস্তার ইতিহাসও বেশ পুরোনো। মসলা, ওষুধি উপাদান ও খাদ্যদ্রব্য ছেঁচার এই পদ্ধতি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বহুকাল ধরে প্রচলিত। বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে মর্টার ও পেস্টল সম্পর্কে এই তথ্যভাণ্ডারটি দেখতে পারেন।
এই ডিজাইন হামাম দিস্তায় নকশার কাজ একে সাধারণ হামানদিস্তার তুলনায় বেশি দৃষ্টিনন্দন করেছে। যাঁরা নিজের ব্যবহারের জন্য কিনছেন, তাঁদের কাছে এটি রান্নাঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর একটি উপায়। আবার উপহার হিসেবেও পিতলের হামাম দিস্তা বেছে নেওয়া যায়, কারণ এতে ঐতিহ্য আর ব্যবহারিকতা দুটোই আছে।
ঘরের সাজসজ্জায় পিতলের অন্য জিনিস যোগ করতে চাইলে আমাদের বড় পিতলের ফুলদানি দেখতে পারেন। পিতলের একই উষ্ণ রঙের ছোঁয়ায় ড্রয়িংরুম আর রান্নাঘরের মধ্যে একটি সুন্দর মিল তৈরি হয়।
কেনার আগে যা বিবেচনা করবেন
অনলাইনে পিতলের হামানদিস্তা কেনার আগে কয়েকটি বিষয় ভেবে নিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
আপনার ব্যবহারের ধরন
আপনি যদি প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আদা-রসুন বা মসলা ছেঁচতে চান, তাহলে মাঝারি সাইজ সাধারণত সুবিধাজনক। বড় পরিমাণ উপকরণ একসঙ্গে ছেঁচার প্রয়োজন হলে নিজের চাহিদার সঙ্গে সাইজ মিলিয়ে দেখুন। পণ্যের পেজে দেওয়া তথ্য ও ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
রান্নাঘরের জায়গা ও রাখার স্থান
হামাম দিস্তা কোথায় রাখবেন, সেটি আগে থেকে ভেবে রাখুন। শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখলে ছেঁচার সময় স্থির থাকে। নকশাযুক্ত পণ্য হওয়ায় অনেকে এটি দৃশ্যমান তাকেও সাজিয়ে রাখেন।
ব্যবহার ও সাজসজ্জা
এটি যেমন রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনি ঐতিহ্যবাহী রান্নাঘরের সাজসজ্জার অংশও হতে পারে। আপনি কোন উদ্দেশ্যে কিনছেন, সেটি আগে ঠিক করলে সন্তুষ্টি বেশি পাওয়া যায়।
পণ্য হাতে পেয়ে যাচাই
পণ্য হাতে পেলে নকশা, গড়ন ও দুটি অংশই ঠিকঠাক আছে কি না একবার দেখে নিন। কোনো প্রশ্ন থাকলে অর্ডারের আগে বা পরে Albaki Shop-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
যত্ন ও পরিষ্কারের নিয়ম
পিতলের জিনিস দীর্ঘদিন সুন্দর রাখতে একটু যত্ন নিতে হয়। নিচের অভ্যাসগুলো মেনে চললে আপনার Design Hamam Dista দেখতে ভালো থাকবে।
ব্যবহারের পর পরিষ্কার
মসলা বা আদা-রসুন ছেঁচার পর দেরি না করে পাত্র ও মুগুর ধুয়ে নিন। ভেজা অবস্থায় উপকরণ লেগে থাকলে দাগ পড়তে পারে। কুসুম গরম পানি ও নরম স্পঞ্জ দিয়ে ধোয়া সাধারণত ভালো।
ভালোভাবে শুকানো
ধোয়ার পর নরম কাপড় দিয়ে মুছে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। পানি জমে থাকলে পিতলে দাগ বা রং পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে নকশার খাঁজে পানি জমতে পারে, তাই সেখানে একটু বাড়তি নজর দিন।
কড়া ঘষামাজা এড়ানো
নকশাযুক্ত পিতলের পণ্যে কড়া ব্রাশ বা তীব্র রাসায়নিক ব্যবহার না করাই ভালো। এতে পৃষ্ঠের উজ্জ্বলতা ও নকশার সূক্ষ্মতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংরক্ষণ
ব্যবহারের পর শুকনো ও পরিষ্কার জায়গায় রাখুন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে নরম কাপড়ে মুড়ে রাখতে পারেন। পিতলের স্বাভাবিক রং সময়ের সঙ্গে কিছুটা বদলাতে পারে। এটি এই ধাতুর একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।


